Tuesday, 29 March 2016

অপহৃত দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে লিবিয়া পুলিশ

রিয়েলনিউজ২৪বিডি:লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলির উপশহর মিশরাতা থেকে অপহৃত দুই বাংলাদেশি শ্রমিককে উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ বাহিনী। অপহৃত ওই দুই যুবক হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গড়গাঁও গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান রাসেল (২৪) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার রিপন (২২)। উদ্ধার হওয়ার পর আসাদ টেলিফোনে তার বাবা আব্বাস আলীকে জানান,তাদেরকে আইএস জঙ্গির কোনো সদস্য অপহরণ করেনি। তবে যুদ্ধের অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী বহিরাগত শ্রমিকদের প্রায়ই অপহরণ করে এবং কিছু টাকা-পয়সা আদায় করে ছেড়ে দেয়। কিছুদিন আগে বাংলাদেশি আরো ৩ শ্রমিক, ভারতীয় ২ জন এবং শ্রীলঙ্কান ৫ শ্রমিককে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে এবং তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে লিবিয় ২ হাজার টাকা করে নিয়ে ছেড়ে দেয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে, তারা মারধর ও নির্যাতন করে। গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকে লিবিয়ার মিশরাতা উপশহরের একটি বাজারের পাশ থেকে ওই দুই বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। উদ্ধার হওয়া রিপন টেলিফোনে জানান, এই তিনদিন তাদের দুইজনসহ ভারতীয় ও শ্রীলংকার মোট সাতজনকে মিশরাতা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। তারা অপহৃত হবার পরে বিষয়টি তাদের রুমমেট শাহীন, তবারুলসহ আল-মদিনা লিমিটেডের মালিক পক্ষ স্থানীয় পুলিশকে জানায়। রিপন জানান, অপহরণের পরে তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার লিবিয়া দিনার মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরের দিন থেকে পুলিশের তৎপরতার কারণে কারো সাথে তাদের ফোনে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি। সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টার দিকে পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনসহ ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কার সাতজনকে উদ্ধার করে মিশরাতার ক্যারাং থানায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে আল-মদিনা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ নিয়ে আসে। পুলিশের অভিযানের সময় তাদের সঙ্গে থাকা পাঁচজন সন্ত্রাসী অপহৃতদের ঘরে আটকে রেখে তালা মেরে পালিয়ে যায়। পুলিশ তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। আসাদ জানায়, মিশরাতা শহরে আইএস জঙ্গিদের দ্বারা এখনো আক্রান্ত হয়নি। তবে যুদ্ধের কারণে ও এই সুযোগ নিয়ে কিছু সন্ত্রাসীর জন্য এই জায়গাটিও বহিরাগত শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আসাদের মা আলেমা খাতুন সরকারের তৎপরতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, উদ্ধার হওয়া ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে, সে ভালো আছে। রিয়েলনিউজ২৪বিডি

0 comments:

Post a Comment