ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করে পালিয়ে যাওয়া তিন বিদেশী নাগরিককে ফিরিয়ে দেবে একটি প্রভাবশালী দেশের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। মঙ্গলবার ঢাকাকে এমন মনোভাবের কথা জানিয়ে দিয়েছে ওই সংস্থাটির নীতিনির্ধারক মহল। তবে এর বিনিময়ে দেশটির তালিকাভুক্ত একজন জঙ্গিকে বাংলাদেশ থেকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, বড় ধরনের ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করে সম্প্রতি ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন জার্মান নাগরিক সেজেফান মাজুরেক ওরফে থমাস পিটার। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে এ পর্যন্ত তিন দফা রিমান্ডে আনা হয়। এখন তৃতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড চলছে। রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে। তবে পিটার গ্রেফতার হওয়ার আগে তার অন্যতম তিন সহযোগী ঢাকা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরা হলেন : জার্মান নাগরিক অ্যান্ড্রে, বুলগেরিয়ার নাগরিক রোমিও এবং একই দেশের আরও একজন। যার নাম প্রকাশ করতে চান না গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এর মধ্যে অ্যান্ড্রে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি, রোমিও ১৩ ফেব্রুয়ারি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর বুলগেরিয়ান নাগরিক কুয়েতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, থমাস পিটারকে নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি টিম ৪ মার্চ হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযানে যায়। সেখানে সম্প্রতি ঢাকা ত্যাগ করা বিদেশী নাগরিকদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত সংরক্ষিত তথ্যভাণ্ডার থেকে তাকে ছবি দেখানো হয়। পিটার বেশ কিছু ছবি দেখে একপর্যায়ে তার পরিচিত বুলগেরিয়ান নাগরিক শনাক্ত করেন। যে ছিল তার অন্যতম তিন সহযোগীর একজন। যিনি ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসেন। এ অপরাধী কী পরিমাণ টাকা নিয়ে গেছেন সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি গোয়েন্দারা। সিটি ব্যাংক তাদের বুথগুলোর যে ভিডিও ফুটেজ গোয়েন্দাদের কাছে সরবরাহ করে সেখানেও এই বিদেশীর অস্তিত্ব পান গোয়েন্দারা। মিরপুরের কালশী এলাকার একটি বুথের ভিডিওতে ওই বিদেশীকে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে টাকা তুলতে দেখেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এ সময় তার সঙ্গে এক বাংলাদেশীও ছিলেন।
এদিকে এ মামলায় এখন পর্যন্ত পিটারের বাইরে পাঁচজনকে গ্রেফতার এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন : সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা রেজাউল করিম শাহীন, রেফাত আবেদিন রনি ও মোকসেদ আলি মাকসুদ। গত ৫ মার্চ রাতে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় হুমায়ুন কবির ও সাইফুজ্জামানকে। সর্বশেষ সোমবার রাতে আটক করা হয় গুলশানের খান এয়ার ট্রাভেলসের কর্মকর্তা আবু জাফরকে। এদের মধ্যে পিটার ছাড়া সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা তিন দফায় ১৪ দিনের রিমান্ডে আছেন। আর সাইফুজ্জামান ও হুমায়ুন কবিরের চার দিনের রিমান্ড চলছে।
সূত্র জানায়, পালিয়ে যাওয়া তিন বিদেশীকে ধরতে না পারলে আন্তর্জাতিক এই ক্রেডিট কার্ড জালিয়াত চক্রকে সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হবে না। এ জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনসহ ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ এর সঙ্গে জড়িতদের কঠিন শাস্তি দিতে চায়। পার্শ^বর্তী দেশ ভারতও এ বিষয়ে খুবই সিরিয়াস। এর অংশ হিসেবে একটি দেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ডিবির কর্মকর্তারা গত কয়েকদিন থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামিদের ঢাকায় ফিরিয়ে আনতে দেনদরবার শুরু করেন। একপর্যায়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়। পালিয়ে যাওয়া জালিয়াতদের তারা ধরে এনে ঢাকায় ফেরত দেবে। কিন্তু তার সঙ্গে একটি শর্ত জুড়ে দেয়। বলা হয়, এর বিনিময়ে বাংলাদেশে থাকা তাদের তালিকাভুক্ত একজন জঙ্গিকে ফেরত দিতে হবে। এ সময় দেশের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনা করে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ওই প্রস্তাব সমর্থন করেন। কারণ এখনই বিদেশী অপরাধীদের আইনের আওতায় না নিতে পারলে বাংলাদেশের আরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারণে আন্তর্জাতিক এই জালিয়াত চক্রকে ধরতে চান বাংলাদেশী গোয়েন্দারা। তাই গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে ফলাফল আসতে পারে।
এদিকে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আটক পিটারের ঘনিষ্ঠ এক বাংলাদেশী সহযোগী সবিস্তারে সব খোলাসা করে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। যার নাম আবু জাফর। তিনি গুলশানের খান এয়ার ট্রাভেলসের কর্মকর্তা। পিটারের অনেক অপকর্মের চাক্ষুস সাক্ষী তিনি। উত্তরার কমফোর্ট ইন হোটেল থেকে সিটি ব্যাংকের পস মেশিন তিনিই পিটারের হাতে নিয়মিত তুলে দিতেন। বিনিময়ে বড় অংকের মাসোয়ারা পেতেন তিনি। এছাড়া পিটার কীভাবে এবং কোথায় বসে স্কিমিং ডিভাইসের সাহায্যে গ্রাহকের এটিএম কার্ডের গোপন পাসওয়ার্ড ক্লোন করতেন তার প্রত্যক্ষ সাক্ষীও আবু জাফর। আজ বুধবার বনানী থানায় দায়ের করা সিটি ব্যাংকের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হবে। একই সঙ্গে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে পারেন এই আবু জাফর।
ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজমের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ডিআইজি মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, থমাস পিটারের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ীই এই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিটার নামে অনেককেই চেনেন না। তবে দেখে চিনতে পারেন। এ কারণে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী কয়েকটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গুলশান থেকে গ্রেফতার হওয়া হুমায়ুন কবির কালোবাজারি। তিনিই পিটারের সহযোগী বুলগেরিয়ান নাগরিক রোমিওকে ২৮ লাখ টাকার ডলার সরবরাহ করেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে থমাস পিটার জালিয়াতি করে যে টাকা তুলে নিতেন তা ডলার করে চীনে পাঠাতে সহায়তা করতেন। অন্যদিকে সাইফুজ্জামান একটি বেসরকারি ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ২০১২ সাল থেকে এটিএম ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিতে যুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশে কার্ড ভেন্ডর হিসেবেও পরিচিত। তার সঙ্গেও পিটারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এ বিষয়ে দায়ের করা তিনটি মামলাই ডিবি তদন্ত করছে। এর মধ্যে বনানী থানায় দায়ের করা ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির মূল মামলায় আসামি করা হচ্ছে পিটারসহ তার অন্যতম তিন বিদেশী সহযোগী আর লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী বংশদ্ভূত ব্যবসায়ী ফরিদ নাবিরকে।
এছাড়া অপর মামলায় পিটারের অন্য সহযোগীদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত বেসরকারি তিনটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে অন্তত ২২ লাখ টাকা তুলে নেয় চক্রটি। টাকা হাতিয়ে নিতে তারা স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে গ্রাহকদের গোপন তথ্য চুরি করে। এরপর ঘটনার শিকার ২১ জন সাধারণ গ্রাহক ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল), সিটি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে টনক নড়ে। এরপর যুগান্তরের অনুসন্ধান সেলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতার হন থমাস পিটার।
সূত্র: http://www.jugantor.com/online/national/2016/03/09/6385/%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%9C%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%A4-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%80
Wednesday, 9 March 2016
Home »
» ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি: এক জঙ্গির বিনিময়ে ফেরত আসছে তিন বিদেশি
ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি: এক জঙ্গির বিনিময়ে ফেরত আসছে তিন বিদেশি
ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করে পালিয়ে যাওয়া তিন বিদেশী নাগরিককে ফিরিয়ে দেবে একটি প্রভাবশালী দেশের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। মঙ্গলবার ঢাকাকে এমন মনোভাবের কথা জানিয়ে দিয়েছে ওই সংস্থাটির নীতিনির্ধারক মহল। তবে এর বিনিময়ে দেশটির তালিকাভুক্ত একজন জঙ্গিকে বাংলাদেশ থেকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, বড় ধরনের ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করে সম্প্রতি ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন জার্মান নাগরিক সেজেফান মাজুরেক ওরফে থমাস পিটার। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে এ পর্যন্ত তিন দফা রিমান্ডে আনা হয়। এখন তৃতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড চলছে। রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে। তবে পিটার গ্রেফতার হওয়ার আগে তার অন্যতম তিন সহযোগী ঢাকা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরা হলেন : জার্মান নাগরিক অ্যান্ড্রে, বুলগেরিয়ার নাগরিক রোমিও এবং একই দেশের আরও একজন। যার নাম প্রকাশ করতে চান না গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এর মধ্যে অ্যান্ড্রে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি, রোমিও ১৩ ফেব্রুয়ারি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর বুলগেরিয়ান নাগরিক কুয়েতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, থমাস পিটারকে নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি টিম ৪ মার্চ হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযানে যায়। সেখানে সম্প্রতি ঢাকা ত্যাগ করা বিদেশী নাগরিকদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত সংরক্ষিত তথ্যভাণ্ডার থেকে তাকে ছবি দেখানো হয়। পিটার বেশ কিছু ছবি দেখে একপর্যায়ে তার পরিচিত বুলগেরিয়ান নাগরিক শনাক্ত করেন। যে ছিল তার অন্যতম তিন সহযোগীর একজন। যিনি ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসেন। এ অপরাধী কী পরিমাণ টাকা নিয়ে গেছেন সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি গোয়েন্দারা। সিটি ব্যাংক তাদের বুথগুলোর যে ভিডিও ফুটেজ গোয়েন্দাদের কাছে সরবরাহ করে সেখানেও এই বিদেশীর অস্তিত্ব পান গোয়েন্দারা। মিরপুরের কালশী এলাকার একটি বুথের ভিডিওতে ওই বিদেশীকে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে টাকা তুলতে দেখেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এ সময় তার সঙ্গে এক বাংলাদেশীও ছিলেন।
এদিকে এ মামলায় এখন পর্যন্ত পিটারের বাইরে পাঁচজনকে গ্রেফতার এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন : সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা রেজাউল করিম শাহীন, রেফাত আবেদিন রনি ও মোকসেদ আলি মাকসুদ। গত ৫ মার্চ রাতে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় হুমায়ুন কবির ও সাইফুজ্জামানকে। সর্বশেষ সোমবার রাতে আটক করা হয় গুলশানের খান এয়ার ট্রাভেলসের কর্মকর্তা আবু জাফরকে। এদের মধ্যে পিটার ছাড়া সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা তিন দফায় ১৪ দিনের রিমান্ডে আছেন। আর সাইফুজ্জামান ও হুমায়ুন কবিরের চার দিনের রিমান্ড চলছে।
সূত্র জানায়, পালিয়ে যাওয়া তিন বিদেশীকে ধরতে না পারলে আন্তর্জাতিক এই ক্রেডিট কার্ড জালিয়াত চক্রকে সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হবে না। এ জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনসহ ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ এর সঙ্গে জড়িতদের কঠিন শাস্তি দিতে চায়। পার্শ^বর্তী দেশ ভারতও এ বিষয়ে খুবই সিরিয়াস। এর অংশ হিসেবে একটি দেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ডিবির কর্মকর্তারা গত কয়েকদিন থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামিদের ঢাকায় ফিরিয়ে আনতে দেনদরবার শুরু করেন। একপর্যায়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়। পালিয়ে যাওয়া জালিয়াতদের তারা ধরে এনে ঢাকায় ফেরত দেবে। কিন্তু তার সঙ্গে একটি শর্ত জুড়ে দেয়। বলা হয়, এর বিনিময়ে বাংলাদেশে থাকা তাদের তালিকাভুক্ত একজন জঙ্গিকে ফেরত দিতে হবে। এ সময় দেশের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনা করে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ওই প্রস্তাব সমর্থন করেন। কারণ এখনই বিদেশী অপরাধীদের আইনের আওতায় না নিতে পারলে বাংলাদেশের আরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারণে আন্তর্জাতিক এই জালিয়াত চক্রকে ধরতে চান বাংলাদেশী গোয়েন্দারা। তাই গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে ফলাফল আসতে পারে।
এদিকে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আটক পিটারের ঘনিষ্ঠ এক বাংলাদেশী সহযোগী সবিস্তারে সব খোলাসা করে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। যার নাম আবু জাফর। তিনি গুলশানের খান এয়ার ট্রাভেলসের কর্মকর্তা। পিটারের অনেক অপকর্মের চাক্ষুস সাক্ষী তিনি। উত্তরার কমফোর্ট ইন হোটেল থেকে সিটি ব্যাংকের পস মেশিন তিনিই পিটারের হাতে নিয়মিত তুলে দিতেন। বিনিময়ে বড় অংকের মাসোয়ারা পেতেন তিনি। এছাড়া পিটার কীভাবে এবং কোথায় বসে স্কিমিং ডিভাইসের সাহায্যে গ্রাহকের এটিএম কার্ডের গোপন পাসওয়ার্ড ক্লোন করতেন তার প্রত্যক্ষ সাক্ষীও আবু জাফর। আজ বুধবার বনানী থানায় দায়ের করা সিটি ব্যাংকের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হবে। একই সঙ্গে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে পারেন এই আবু জাফর।
ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজমের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ডিআইজি মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, থমাস পিটারের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ীই এই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিটার নামে অনেককেই চেনেন না। তবে দেখে চিনতে পারেন। এ কারণে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী কয়েকটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গুলশান থেকে গ্রেফতার হওয়া হুমায়ুন কবির কালোবাজারি। তিনিই পিটারের সহযোগী বুলগেরিয়ান নাগরিক রোমিওকে ২৮ লাখ টাকার ডলার সরবরাহ করেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে থমাস পিটার জালিয়াতি করে যে টাকা তুলে নিতেন তা ডলার করে চীনে পাঠাতে সহায়তা করতেন। অন্যদিকে সাইফুজ্জামান একটি বেসরকারি ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ২০১২ সাল থেকে এটিএম ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিতে যুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশে কার্ড ভেন্ডর হিসেবেও পরিচিত। তার সঙ্গেও পিটারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এ বিষয়ে দায়ের করা তিনটি মামলাই ডিবি তদন্ত করছে। এর মধ্যে বনানী থানায় দায়ের করা ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির মূল মামলায় আসামি করা হচ্ছে পিটারসহ তার অন্যতম তিন বিদেশী সহযোগী আর লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী বংশদ্ভূত ব্যবসায়ী ফরিদ নাবিরকে।
এছাড়া অপর মামলায় পিটারের অন্য সহযোগীদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত বেসরকারি তিনটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে অন্তত ২২ লাখ টাকা তুলে নেয় চক্রটি। টাকা হাতিয়ে নিতে তারা স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে গ্রাহকদের গোপন তথ্য চুরি করে। এরপর ঘটনার শিকার ২১ জন সাধারণ গ্রাহক ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল), সিটি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে টনক নড়ে। এরপর যুগান্তরের অনুসন্ধান সেলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতার হন থমাস পিটার।
সূত্র: http://www.jugantor.com/online/national/2016/03/09/6385/%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%9C%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%A4-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%80






0 comments:
Post a Comment